নিখোঁজের ৭ দিন পর নারায়ণগঞ্জ থেকে জিনিয়াকে উদ্ধার-অপহরণকারী গ্রেফতার!

0
176

নিখোঁজের ৭ দিন পর নারায়ণগঞ্জ থেকে জিনিয়াকে উদ্ধার-অপহরণকারী গ্রেফতার

স্টাফ রি‌র্পোটার-মোঃ জসীম উদ্দীন চৌধুরীঃ

নিখোঁজের ৭দিন পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকার ফুলবিক্রেতা শিশু জিনিয়াকে নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার এইচ এম আজিমুল হক হেমন্ত টি‌ভি‌কে জানান, গত সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটী থেকে তারা ৯বছরের শিশুটিকে উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় লোপা তালুকদার নামে এক তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার পুরো পরিচয় জানা না গেলেও জিনিয়ার মা যে দুইজনকে সন্দেহ করার কথা পুলিশকে বলেছিলেন, লোপা তাদের একজন।
আজিমুল হক বলেন,কী উদ্দেশ্যে, কারা জিনিয়াকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল তা আমরা জানার চেষ্টা করছি। বিস্তারিত পরে বলা যাবে। গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সর্বশেষ জিনিয়াকে টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ফটকে অপরিচিত দুইজন নারীর সঙ্গে ফুচকা খেতে দেখেছিলেন তার মা সেনুরা বেগম। এরপর থেকে জিনিয়ার হদিস পাওয়া যাচ্ছিল না। অনেক জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে পরদিন বুধবার সেনুরা বেগম শাহবাগ থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি অপরিচিত ওই দুই নারীকে ঘিরে সন্দেহের কথা বলেন।
শিশুর মা সেনুরা বেগম বলেন,পুলিশ বলেছে, ওই মহিলারাই আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ও নানা প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গেছিল। তবে এখনো আমার বুকের মানিককে দেখতে পাই নাই। আজকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসবে। ট্রাকচালক স্বামী দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ৭বছর আগে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে তিন সন্তানকে নিয়ে টিএসসি এলাকায় আসেন সেনুরা। দুই মেয়ে সিনথিয়া (৭), জিনিয়া (৯) ও ছেলে পলাশকে (১৭) নিয়ে টিএসসি বারান্দায় রাত কাটান তিনি। দিনের বেলা ফুল বিক্রি করে মায়ের সংসারে জোগান দেয় জিনিয়া ও সিনথিয়া। আর পলাশ এখন একটা চায়ের দোকানে কাজ করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা টিএসসিতে যাদের আনাগোনা, তাদের অধিকাংশেরই চেনা মিষ্টি হাসির দুই শিশু সিনথিয়া-জিনিয়াকে। জিনিয়া নিঁখোজ হওয়ার পর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুটির খোঁজে সরব হয়ে ওঠেন।

কি কি কারণে নারী ও শিশু পাচারের শিকার হয় তা সবার জানা ধরকার।বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ বাংলাদেশ। অধিকাংশ পরিবারই দুস্থ, নি:স্ব ও অসহায়। আর এ পরিস্থিতির পূরার সদ্ব্যবহার করছে বাংলদেশসহ আন্তরসুতিকভাবে সংঘবদ্ধ এক শ্রেণীর প্রতারক। তারা বি‌ভিন্ন প্রলােভন দেখিয়ে অসহায় পিতামাতার মেয়েদের শহরে চাকুরি বা যৌতুক বিহীন বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে পাচার করে দিচ্ছে।অন্ধকার জগতে। পাচারকারীদের প্রলােভনের শিকার হচ্ছে।দেশের ছিন্নমূল, ভবঘুরে নারী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ এবং দারিদ্রের নিষ্পেশনে জাররিত অশিক্ষিত, তালাকপ্রাপ্ত ও বিধবা নারীরা। অসহায় নারীরা সুন্দরভাবে বাঁচার আশায় নতুন জীবনের স্বপ্নে বিভাের হয়ে পাচারকারীদের পাতা জালে জড়িয়ে পড়ছে। পিতামাতারা অর্থ উপার্জনের আশায় বেশি বেতনের চাকরীর প্রলােভনে পড়ে বা সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় না জেনে শিশু সন্তানদের তুলে দিচ্ছে পাচারকারীদের হাতে। এভাবে শিশুরাও প্রতারণার শিকার হয়ে পাচার হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পাচারকারীরা পিতামাতার অসর্তকতার সুযােগ নিয়ে শিশুদের চুরি করে পাচার ক‌রে দিচ্ছে।যেসব কারণে পাচারকারীরা সহজে নারী ও শিশু এবং শিশুদের অভিভাবককে প্রতারণা করতে সক্ষম হয় তার মধ্যে রয়েছে।দারিদ্র্য,সীমান্ত অতিক্রমের সহজ প্রক্রিয়া,সমাজে মেয়েদের অবমূল্যায়ন,শিক্ষা ও সচেতনতার অভাব ও পিতামাতার অসাবধানতা ও অসততা।

Print Friendly, PDF & Email