ধানমন্ডি লেকে তারুন্যের আড্ডা

0
168



মানুষ বড়ই আজব প্রকৃতির হয়ে থাকে।আমরা সবসময়ই কোন না কোন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকি।আর এর মধ্যে যারা শহরের যান্ত্রিকতায় থাকে তারাতো আরো একধাপ এগিয়ে থাকে ব্যস্ততার দিক দিয়ে।শহরের যান্ত্রিকতার মধ্যে ব্যস্ত মানুষগুলো যখন হাপিয়ে উঠে তখন মন চায় একটু প্রশান্তির,একটু বিশ্রামের। কিন্তু এই যান্ত্রিক ঢাকায় সেই প্রশান্তির জায়গাটা খুবই ক্ষীণ।যে ক’টা হাতে গোনা জায়গা আছে এর মধ্যে খুব প্রসিদ্ধ একটা জায়গা হচ্ছে ধানমন্ডি লেক।সেই ১৯৫৬ সাল থেকে যখন ধানমন্ডির গোড়া পত্তন হয়েছে তখন থেকেই এই লেক ঢাকাবাসীর বিনোদনের এক প্রসিদ্ধ জায়গা হয়ে উঠেছে।আস্তে আস্তে কালের বিবর্তনে এই লেক ঢাকাবাসী তথা ঢাকার তরুণদের এক বিশাল মিলনের স্থলে পরিণত হয়েছে । প্রায় ২৪১ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিশাল এই লেকের সর্বত্রই চোখে পড়বে তরুণদের পদচারণা,তবে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকে প্রায় মধ্যরাত পর্যন্ত তরুণরা মুখরিত করে রাখে এই লেক এবং লেক সংলগ্ন এলাকা।এখানে একটু লক্ষ্য করলেই চোখে পড়বে তরুণদের উচ্ছ্বাস উদ্দীপনা।কোথাও হয়তো একঝাঁক তরুণ বসে গানের আড্ডা জমিয়ে তুলেছে তো কোথাও তারা একসাথে দেশের রাজনীতির নিয়ে কথা বলছে।লেকের প্রায় মধ্য স্থলে আছে একটা মঞ্চ যাকে আমরা “রবীন্দ্র সরোবর” বলে জানি। এখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে।পুরো লেক জুড়ে আছে বোড রাইডিং এর সুব্যবস্থা।এখানে ঘন্টা হিসেবে যে কেউই বোড ভাড়া করে উপভোগ করতে পারে লেকের সৌন্দর্য।লেক সংলগ্ন এলাকায় আছে রেস্টুরেন্ট এবং অস্থায়ী ফুড কোর্ট।যে গুলোতে ভ্রমণ পিপাসুরা ঘোরাঘুরির পাশাপাশি করে নিতে পারে একটু পেট পুঁজোও।

লেক ঘেষে আছে জাতীর পিতার স্মৃতি বিজরিত বাড়ি।যেটি এখন বঙ্গবন্ধু যাদুঘর হিসেবে পরিচিত।যেখানে মানুষ এসে দেশের এই শ্রেষ্ঠ সন্তান ও তার পরিবারের মানুষের ব্যবহৃত অনেক জিনিসপত্র দেখতে পারেন।সাথে সাথে ১৫ই আগষ্টের সেই রক্ত ঝরা ইতিহাস সর্ম্পকেও মানুষ জানতে পারে।
তরুণরা সবসময়ই চায় তাদের মতো করে চলতে। তারা চায় নিজের মতো করে এই যান্ত্রিকতাকে ভুলে থাকতে।আর এর জন্য তারা একটু অবসর খোজে এই লেকের জলে।আর এই লেকও হয়তোবা বেঁচে থাকবে লক্ষ্য তরুণের প্রাণের স্পন্দনে ।

Print Friendly, PDF & Email