গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের বরাদ্দ!

0
113

“উন্নয়নের অন্তরায় ইউনিয়ন পরিষদ”

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬ নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ। সরকার তৃণমূলে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নয়ন পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে প্রতি বৎসর ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, এমনকি স্থানীয় সাংসদের মাধ্যমে লক্ষ-লক্ষ, কোটি-কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে থাকে।

যার তদারকি ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এল,জি,ই,ডি)। শুধু তাই নয়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ প্রকল্পের বরাদ্দ, নক্সাসহ সার্বিক কার্য্যপদ্ধতি প্রস্তুত করে কার্য্য বাস্তবায়ন পর্যন্ত তদারকির দায়িত্বে থাকে।

এরূপ অবস্থায় গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ গত ২০১৯-২০২০ অর্থ বৎসরে প্রকল্প কোডঃ১৩২৯১-২২-১০০৮২ নং প্রকল্প প্রস্তুত করে। যে প্রকল্পটি ২০২০-২০২১ অর্থ বৎসরের বরাদ্দে বাস্তবায়ন হবে।

প্রকল্পটির নামঃ কনস্ট্রাকশন অফ সিসি রোড মধ্য শাহাবাজ মৌজা এইচ/অফ ভক্ত- মধ্য শাহাবাজ জিপিএস আনডার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদ। প্রকল্প সড়কটির দৈর্ঘ্য ১১৪.৪০০ মিটার ও প্রস্ত ১.৯৪০ মিটার। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বরাদ্দ মোটঃ৫০০০০০.০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা।

প্রকল্পের নির্দেশনা (ষ্টিমেট) এর কপি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার প্রকৌশলী কার্য্যালয়ের ড্রাফ্টসম্যান মোঃ ময়নুল ইসলাম গত ০৯-১১-২০২০ ইং ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের নিকট হস্তান্তর করেন।

সরেজমিন প্রত্যক্ষ করিলে দেখা যায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ জিয়া সরকার বা প্রকৌশল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্য্য বাস্তবায়ন করছে না। সড়কটি নির্মাণে ইউপি সদস্য মোঃ জিয়া প্রথম শ্রেনীর ইট ব্যবহার না করে প্রায় ১৮০ বৎসরের পুরাতন ইট, (বাংলাদেশ রেলওয়ের নিলামে বিক্রিত প্রতি ইট দুই টাকা) ১৮০ বৎসরের পুরাতন ভাঙ্গা ইটের খোয়া, নিম্ন মানের বালু, নির্দেশনা অনুযায়ী আনুপাতিকভাবে সিমেন্ট না দেয়া, এস্কিবিউটর দিয়ে মাটি না খোঁড়া, সিসির নিচে সলিং (বিছানো ইট) না দেয়া সহ স্বেচ্ছাচারী ভাবে কার্য্য সমাধানের অপচেষ্টা করছেন। যাহা অবশ্যই তৃণমূলে সরকারের উন্নয়নের পরিপন্থী।

মূলত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য বা ইউপি সদস্যদের কাজটি করার কোনোরকম এখতিয়ার নাই। কারণ কাজটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করার নিয়ম। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য ও ইউপি সদস্যগন নিজেরাই কাজ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সীল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের যোগসাজশে অর্থ আত্নস্বাৎ করে মাত্র।

প্রকল্পে সরেজমিনে উপস্থিত হলে ইউপি সদস্য মোঃ জিয়ার উপস্থিতি না-পেয়ে তার মোবাইল ফোন (০১৭৬৭-৪৯৩৯৭২) নাম্বারে যোগাযোগ করিলে তিনি ইউপি সচিবের সাথে যোগাযোগ করে সরকারি নির্দেশনা (স্টিমেট) দেখার কথা বলেন।

গতকাল ৩০-১১-২০২০ ইং ইউপি সচিবের সাথে সাক্ষাৎ করিলে তিনি নির্দেশনা (ষ্টিমেট) এর কপি সরবরাহ করেন।

আমরা নিশ্চিত যে প্রকল্পটিতে অনিয়ম শতভাগ, তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাহাবুর রহমানের সহিত যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি দেখবেন মর্মে জানান।

এরূপ প্রতিটি ইউনিয়নের সকল প্রকল্পের অবস্থা একই। এমতাবস্থায় সাধারণ জনগণের প্রশ্নঃ দেখ-ভাল বা তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা কি নাকে তেল দিয়ে ঘুমান নাকি কালো চশমা পড়ার কারণে কিছুই দেখেন না? নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে?

এমতাবস্থায় সরকারের সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়মানুযায়ী বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এমনকি সরকারের সকল উন্নয়নের অন্তরায় যেকোনো ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি সাধারণ জনগণের।

Print Friendly, PDF & Email